নিশিতে জয় আসতে পারে এখান থেকে বিজেপির. তাইতো বহিরাগতরাও এই বিধানসভায় ভোটে দাঁড়াতে চাইছে. অথচ 2016 সালে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির এই চিত্র ছিল না এখানে. বিধানসভা গুলি A B, C ,ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছে বিজেপি. রানাঘাট উত্তর পূর্ব বিধানসভা A ক্যাটাগরির মধ্যে রেখেছে বিজেপি. গত লোকসভা ভোটে যে সমস্ত বিধানসভা আসন গুলি থেকে বিজেপির 40 হাজারের উপরে লিড দিয়েছে সে গুলোকে A ক্যাটাগরির মধ্যে রাখা হয়েছে. A ক্যাটাগরির বিধানসভা আসন গুলির মধ্যে রানাঘাট উত্তর পূর্ব বিধানসভায় প্রায় 60 শতাংশ মানুষ SC. তার মধ্যে প্রায় 90% মানুষ মতুয়া বা উদ্বাস্তু সম্প্রদায়ের মানুষ. এই সম্প্রদায়ের মানুষ খুব সহজ এবং সরল প্রকৃতির হয়. মতুয়া এবং উদ্বাস্তুরা সর্বদা সহজ-সরল থাকায় তারা বারে বারে বঞ্চিত হচ্ছেন. এই বিধানসভার বিভিন্ন পঞ্চায়েতের মধ্যে বহিরগাছি অন্যতম পঞ্চায়েত. এই পঞ্চায়েতের মধ্যে 90% মানুষ তপশিলি উদ্বাস্তু. বহিরগাছি পঞ্চায়েত তৃণমূলের দখলে. এই বিধানসভার একজন তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান দুর্নীতির দায়ে 11 মাস জেল খেটেছেন. তৃণমূলের সংগঠন কিছুটা হলেও আগলা হয়ে পড়েছে এই বিধানসভার বিভিন্ন অঞ্চলে. তবুও কেন লড়াই হবে এখানে এটাই কোটি টাকার প্রশ্ন হয়ে উঠছে?
তৃণমূল গত একমাস ধরে বিভিন্ন বুথে মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ বৃদ্ধি করছে. আর মানুষকে বোঝাতে সক্ষম হচ্ছে যে বিজেপি নাগরিকত্ব দেবে না. কিন্তু বিজেপি নেতৃত্ব এখানে সেভাবে বুথে প্রচারে যাচ্ছে না. তাদের মানসিকতা কিছুটা হলেও আলগা হয়ে গেছে. লোকসভা ভোটে 43 হাজার ভোটে এগিয়ে এগিয়ে থাকার কারণে কিছুটা আগলা মানসিকতা তৈরি হয়েছে. এর খেসারত দিতে হতে পারে বিধানসভা নির্বাচনে. প্রায় এখানকার প্রথম সারির সকল নেতা প্রার্থী হওয়ার জন্য দৌড়াদৌড়ি শুরু করেছে. তবুও বিজেপি জিততে চলেছে এখানে. কিন্তু লোকসভা ভোটের যে মার্জিন ছিল সেই মার্জিন নাও থাকতে পারে.
এই বিধানসভার চাষী মহল বিজেপির পক্ষে যেতে পারে. ব্যবসায়ীরা ভাগ হয়ে যেতে পারে. তপশিলি উদ্বাস্তু মতুয়া ভোটও ভাগ হয়ে যেতে পারে এই বিধানসভায়.
গত লোকসভায় বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন এমন একজন ভোটার এর কথা অনুযায়ী,
আমরা লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জি কে দেখে ভোট দিয়েছিলাম. কিন্তু বিধানসভায় সঠিক প্রার্থী না আমরা কিন্তু ভাববো. তিনি আরো বলেন করোনার মধ্যে যেভাবে প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে বাঁচিয়ে রেখেছেন তার জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকব. কিন্তু এই বিধানসভায় বিজেপির নেতৃত্বরা এখন থেকেই নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাঁধিয়ে দিয়ে বসে আছে. দলীয় কোন্দল ক্ষমতায় আসার আগেই শুরু হলে সাধারণ মানুষ এটাকে ভালোভাবে নেবে না. তাই বিজেপি কে সাবধান হতে হবে এবং সঠিক প্রার্থী নির্বাচন করতে হবে.
একজন তৃণমূল সমর্থনকারী ভোটার বলেন, মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়েছিল নাগরিকত্বের আশায়. সেই নাগরিকত্ব এখনো পাইনি উদ্বাস্তুরা.
এই সমস্ত বিভিন্ন কারণে তৃণমূল পিছিয়ে থাকলেও লড়াইটা কিন্তু জমে উঠবে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে. যদি বিজেপি ঘর গোছাতে না পারে তাহলে কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে. বিভিন্ন দলের প্রার্থী নির্বাচনে একটা ফ্যাক্টর হতে পারে জয়-পরাজয়ের ক্ষেত্রে.
জোটের ব্রিগেড সমাবেশ তৃণমূল বিজেপি উভয় দলকেই চিন্তায় রেখেছে.
জোট প্রার্থী দিলে হয়তো সিপিএম থেকে কেউ প্রার্থী হতে পারে. সিপিএমের কোন তরুণ তুর্কি এখানে প্রার্থী হতে পারে.
তৃণমূল হয়তো প্রার্থী করতে পারে পুনরায় সমীর পোদ্দারকে. কিন্তু জনমত সমীক্ষায় তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় যুব তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা রাজেশ ভৌমিকের নাম উঠে আসছে. তিনি বহিরগাছি পঞ্চায়েতের প্রধান. পেশায় প্রাইমারি শিক্ষক.
বিজেপির প্রার্থী তালিকায় অনেকের নাম ভেসে আসছে.
জনমত সমীক্ষায় যে নামটি সবার আগে ভেসে আসছে তিনি হলেন সঞ্জীবন বিশ্বাস. তাকে সবাই জীবন নামেই চেনেন. তিনি রানাঘাট উত্তর পূর্ব বিধানসভার বুথ রক্ষা কমিটির প্রমুখ. এছাড়া তিনি গোমাতা রক্ষা কমিটির নদীয়া জেলার সহ-সভাপতি. পেশায় তিনি একজন ব্যবসায়ী.
অশোক বিশ্বাস এর নামটি ভেসে আসছে এর পরেই. তিনি নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা কৃষাণ মোর্চার সভাপতি. প্রার্থীর দৌড়ে প্রথম দিকেই রয়েছে.
এরপরে নাম উঠে আসছে প্রিয়াঙ্কা মন্ডল. তিনি নদিয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সম্পাদিকা.
এরপরে উঠে আসছে অসীম বিশ্বাসের নাম.
তবে দল কাকে প্রার্থী করে সেটাই দেখার. জনমত সমীক্ষায় আপাতত এই চিত্র ফুটে উঠেছে. তবে আগামী দিনের চিত্র পরিবর্তন হতে পারে.
0 coment rios: