২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপট ছিল এক রকম সেখানে প্রধান ইস্যু ছিল দুর্নীতি। কিন্তু এবারের ভোট হিন্দুত্বের ভোট। শাসক দল চাইবে সংখ্যালঘু ভোট তাদের ভোট ব্যাংকে ঝুলিতে আনতে। বিরোধী বিজেপি দল চাইবে হিন্দু ভোটারদের একত্রিত করে নিজেদের ভোট ব্যাংকে আনতে। এবারের
কালিগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপি হিন্দু ভোটের প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অর্থাৎ হিন্দুরা একত্রিত হয়ে একটি দল সেটা বিজেপিকেই তারা চয়েস করেছে ২০২৬ সালের বিধানসভা য় ভোট দেওয়ার জন্য।
যদি এই ট্র্যাডিশন পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত বিধানসভা জুড়ে থাকে তাহলে বিজেপিকে কেউ আটকাতে পারবেনা 2026 সালে ক্ষমতা দখল করার ক্ষেত্রে।
কিন্তু এই ক্ষমতা দখল করতে গেলে বিজেপিকে তিনটে গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখনই সেরে ফেলতে হবে। ১)যাবতীয় সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার কাজ এখনই শেষ করে ফেলতে হবে দুই এক সপ্তাহের মধ্যে।
২) বুথ থেকে রাজ্যস্তরে প্রত্যেকটি সংগঠনকে নতুন পুরনো সংমিশ্রনের সংগঠন সাজাতে হবে।
৩) ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে বিজেপি নির্বাচনে গেলে সাফল্য আসবে না। দলকে সামনে রেখে,ব্যক্তি কে নয়,শাসক দলের দুর্নীতি কে তুলে ধরে বিজেপিকে লড়াই করতে হবে।
এছাড়া সঠিক প্রার্থী নির্বাচন করতে হবে। কোন দলবদল করা নেতৃত্বকে টিকিট দিলে চলবে না। যথাযথ চেষ্টা করতে হবে ভূমিপুত্র ও দলীয় কার্যকর্তাদের প্রার্থী করার জন্য।
এই সমস্ত ইসুগুলোকে মাথায় নিয়েই বিজেপিকে নির্বাচনে লড়াই করতে হবে।
এখন আসা যাক নাকাশিপাড়া বিধানসভার ক্ষেত্রে, যেদিন থেকে তৃণমূল ক্ষমতায় এসেছিল সেদিন থেকে যদি এই নির্বাচন নিয়ে পর্যালোচনা করা হয় তাহলে দেখা যাবে -২০১১ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের কল্লোল খান ৭৯ হাজার ৬৪৪ ভোট পেয়েছিলেন। যা মোট পোলিং ভোটের ৪৯ শতাংশ।
সিপিএমের গায়ত্রী সদ্দার ৬৩ হাজার ১৭০ ভোট পেয়েছিলেন। যা পোলিং ভোটার মোট ৩৯ শতাংশ। বিজেপির সুশীল বর্মন ১২হাজার ২২৭ ভোট পেয়েছিলেন। যা পোলিং ভোটের মোট ৭% শতাংশ।
২০১৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের কল্লোল খান ৮৮ হাজার ৩২ ভোট পেয়েছিলেন। যা মোট পোলিং ভোটের ৪৭ শতাংশ। সিপিএমের তন্ময় গাঙ্গুলী ৮১ হাজার ৭৮২ ভোট পেয়েছিলেন। যা মোট পোলিং ঘটে ৪৩ শতাংশ। বিজেপির অনুপ কুমার মন্ডল পেয়েছিলেন ১২ হাজার ৭২৪ ভোট।
২০২১ সালে কল্লোল খান পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ৪হাজার ৮১২ ভোট। যা মোট পোলিং ভোটের প্রায় ৫০%। বিজেপির শান্তনু দেব পেয়েছিলেন ৮৩ হাজার ৫৪১ ভোট। আর সিপিএমের তন্ময় গাঙ্গুলি পেয়েছিল ১১হাজার ২৭৭ ভোট।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এই বিধানসভায় জনমত সমীক্ষায় উঠে এসেছে তৃণমূল সামান্য হলেও এগিয়ে আছে বিজেপির থেকে।
তৃণমূলের তরফ থেকে হয়তো কল্লোল খানকে ২০২৬শে প্রার্থী নাও করতে পারে। কনিষ্ক চক্রবর্তীর নাম শোনা যাচ্ছে প্রার্থী হওয়া দৌড়ে তিনি এগিয়ে আছেন। এবছর তৃণমূল অনেক বিধায়কের টিকিট এবার পুনরায় নাও দিতে পারে।
জনমত সমীক্ষায় ও কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে বিজেপির শান্তনু দেব ও অনুপ কুমার মন্ডল, অনন্ত সরকার, সুশীল বর্মন , তপন রায় এদের নাম নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিধানসভার কর্মীদের মতামত ও জনমত সমীক্ষায় জোট টক্কর চলছে অনুপ কুমার মন্ডল এবং শান্তনু দেবের মধ্যে। এদের মধ্যে জোর লড়াই হবে টিকিট পাওয়ার ক্ষেত্রে।
অনুপ কুমার মন্ডল বর্তমানে পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা। এবং অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘ নদিয়া জেলার দায়িত্বে আছেন। এছাড়া সারা ভারত নিখিল বঙ্গ সমন্বয় সমিতির দায়িত্বেও তিনি আছেন। তিনি মতুয়া এবং উদ্বাস্তু ঘরের সন্তান। এই বিধানসভায় সংখ্যালঘু ভোটের পরেই সবচেয়ে বেশি ভোট উদ্বাস্তু তপশিলি মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোট। তাই এখানকার মানুষের একটাই দাবি কোন ভুমিপুত্র এবং সে যেন মতুয়া উদ্বাস্ত ঘরের সন্তান হয় এমন কাউকে প্রাথী করা হোক । তাহলে তাকে মানুষ উজার করে ভোট দেবে। এদিকে 2021 সালের বিজেপির শান্তিনু দেব তিনিও জোর লড়াই দিয়েছিলেন তৃণমূলের কল্লোল খানকে। অনন্ত সরকার দীর্ঘদিনের কার্যকর্তা তিনিও লড়াইতে আছেন। এখন দেখার বিষয় দল কাকে প্রার্থী করে।
শাসকদলের পক্ষ থেকে কল্লোল খানকে প্রার্থী করা না হলে চরম ক্ষতির সম্ভাবনা সম্ভাবনা তৈরি হবে তৃণমূলে। আবার প্রার্থী করা হলেও একটা গ্রুপ বিপক্ষে চলে যেতে পারে। কল্লোল খান বর্তমানে নাকাশিপাড়া তে শাখের করাতে পরিণত হয়েছে তৃণমূলের কাছে।
বিজেপিকে এই নাকাশিপাড়া বিধানসভা জিততে গেলে নিম্নে দেওয়া এই সমস্ত গ্রামগুলিতে বিজেপি সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। দক্ষিণ বহিরগাছি, করকড়িয়া, চকহাতিশালা, গোপালপুর, সভাইপুর, খালসি,বৈরামপুর, গোকুলনগর, সীতা চন্দ্রপুর, দলুইপুরা, নিশ্চিন্তপুর, রাজাপুর, গটপাড়া, উদয় চন্দ্রপুর, তেঘরী, মোটা, বাটি কান্দুয়া, জগদ্দলপুর, রায়বালি, শান্তিপুর, গোকুলনগর, চকবেগে, এই সমস্ত গ্রামগুলিতে বুথের সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করতে হবে বিজেপিকে।
তবে বিজেপি তৃণমূলকে শক্ত লড়াই তে ফেলতে পারবে। তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব বিজেপির জয়ের কারণ হতে পারে এই বিধানসভায় ২০২৬ সালে। তৃণমূলের প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে প্রবল দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে নাকাশিপাড়া বিধানসভায়।
কিন্তু বিজেপির প্রার্থী নির্বাচন সর্বসম্মতভাবে করলেই লড়াইটা সামনাসামনি এসে যাবে।
0 coment rios: