বনগাঁ জেলার সভাপতি দেবদাস মন্ডল ও বনগাঁ লোকসভার সংসদ শান্তনু ঠাকুরকে একসঙ্গে দেখা যায় বিভিন্ন প্রোগ্রামে।
বনগাঁ লোকসভার সংসদ শান্তনু ঠাকুর ও জেলা সভাপতি দেবদাস মন্ডলের সঙ্গে এই বনগাঁ লোকসভার অন্তর্গত পাঁচটি বিধায়ক এর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় না থাকার কারণে বনগাঁ জেলার সংগঠন নড়বড়ে হয়ে গেছে।
তার প্রভাব প্রত্যেকটি বিধানসভা তে পড়েছে। প্রত্যেকটি বিধায়ক পুনরায় ভোটে দাঁড়ানোর কৌশল নিয়ে নিজেদের পছন্দের মানুষকে মন্ডল সভাপতি তৈরি করেছে।
বনগাঁ সাংগঠনিক জেলায় যতগুলো মন্ডল সভাপতি নির্বাচন করা হয়েছে, তার বেশিরভাগই হল যে যার পছন্দের মানুষ। কেউ সভাপতির, কেউ বিধায়কের, কেউ বা সাংসদের পছন্দের মানুষ এরাই মন্ডল সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে।
যার ফলে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলায় সংগঠন পুরোপুরি নড়বড়ে হয়ে গেছে বুথ স্তর থেকে।
এর প্রভাব কিন্তু পড়তে চলেছে হরিণঘাটা বিধানসভার পাশাপাশি বাদবাকি বিধানসভা গুলিতে।
বছর শেষ হলেই বিধানসভা নির্বাচন। এখনো পর্যন্ত রাজ্য সভাপতি ও জেলা সভাপতি পরিবর্তন হয়নি। যারা নতুন সভাপতি হয়েছে তারাও ঠিক মতো কাজ করতে পারছে না, আর পুরনো কার্যকর্তারা অভিমান করে বসে আছে।
যার ফলে খাতা-কলমে সংগঠন ঠিক থাকলেও ভিতর থেকে সংগঠন পুরোপুরি ফাঁকা হয়ে গেছে।
হরিণঘাটা বিধানসভার ২৫৫ টি বুথের মধ্যে ১১০টি বুথে পরিপূর্ণ কমিটি গঠন হয়েছে। এই সমস্ত বুথ কমিটিতে পাঁচজনের অধিক কার্যকর্তা রয়েছে। ৮০ থেকে ৮৫টি বুথে কমিটির গঠন খাতা-কলমে হলেও তার বাস্তব চিত্র অন্য কথা বলছে। ৪০ থেকে ৫০ টি বুথে এখনো বিজেপি সঠিকভাবে বুথ সভাপিত নির্বাচন করতে পারেনি।
ফতেপুর, নগরউখড়া ২ এই অঞ্চল দুটিতে বিজেপি সংগঠন নেই বললেই চলে।
যে সমস্ত গ্রামগুলিতে বিজেপি সংগঠন একদম ভেঙে পড়েছে সেগুলি হল, হাজরা পোতা, দরাপপুর, রাঘবপুর,বল্লভপুর,ফতেপুর, ডুমুরিয়া, ব্রাহ্মণ পাড়া, চাঁদা, পারুলিয়া, হিংনারা, জিকরা, দাসদিয়া, সিঙ্গা ইত্যাদি গ্রামে।
২০২১ সালের ভোটের পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তৃণমূলের নীলিমা নাগ মল্লিক ভোট পেয়েছিলেন ৮২৪৬৬ টি। যা মোট পোলিং ভোটের ৩৯.৪ শতাংশ। সিপিএমের অলকেশ দাস পেয়েছিলেন ২৪৮০০ ভোট। যেটা পোলিং ভোটের মোট ১১.৮%।
আর বিজেপি অসীম সরকার পেয়েছিলেন, ৯৭৬৬৬ ভোট, যেটা মোট পোলিং ভোটের ৪৬.৬ শতাংশ। তৃণমূলীর সঙ্গে বিজেপির ভোটের ফারাক ছিল ১৫ হাজারের মতো।
তৃণমূল কিন্তু এই অংক মাথায় রেখে ২০২২ সাল থেকেই তাদের সংগঠন সাজাতে শুরু করেছে।
যে যে বুথগুলোতে তৃণমূল কম ভোট পেয়েছিল সেই সমস্ত বুথ তৃণমূল নতুন করে সাজিয়ে নিয়েছে।
এই বিধানসভার মোট ২ লক্ষ ৩১ হাজার ৬৬৪ ভোটের মধ্যে মোট পোলিং ভোট হয়েছিল ২লক্ষ ৯ হাজার ৪৬৭ ভোট।
যার মধ্যে পুরুষ ভোট পড়েছিল ১ লক্ষ ১৯ হাজার ৭৭৪ জন ও মহিলা ভোট পড়েছিল ১ লক্ষ ১১হাজার ৮৯০ জন। আর নোটা তে যে ভোট পড়েছিল ১৪২৭ জন।
জনমত সমীক্ষায় এই মুহূর্তে যে তথ্য উঠে এসেছে হরিণঘাটা বিধানসভায় লড়াইটা এখন মুখোমুখি ৫১-৪৯ % অবস্থায় আছে। তাই বিজেপির ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে তৃণমূল এই বিধানসভাতে।
হরিণঘাটা মানুষের দাবি শাসক বিরোধী দুই দলের পক্ষ থেকেই যেন কোন ভুমিপুত্রকে প্রার্থী করা হয় ২০২৬শে।
শাসক দলের পক্ষ থেকে এবার প্রার্থীরা দৌড়ে যারা যারা আছেন, ১) নীলিমা নাগ মল্লিক, তিনি ২০২১ এর পরাজিত প্রার্থী। দল এনাকে পুনরায় প্রার্থী করতে পারে এখান থেকে। তবে তৃণমূল দলের কর্মীদের কাছ থেকে শোনা যাচ্ছে ২) এবার এখানে কাঞ্চন মল্লিককে প্রার্থী করা হতে পারে।
৩) এসএমএস জেলা পরিষদের মেম্বার গণেশ মণ্ডলের নাম ও শোনা যাচ্ছে। দৌড়ে তার নামও কিছু কিছু মানুষের মুখে মুখে ভাসছে।
বিজেপি দলের পক্ষ থেকে জনমত সমীক্ষায় যাদের নাম উঠে আসছে তারা হলেন, ১) অসীম সরকার, ইনি এখানকার স্থানীয় এমএলএ। দৌড়ে সবার প্রথমে থাকবেন তিনি। ২) এরপরে যে নামটি উঠে আসছেন তিনি হলেন তারক সরকার। তিনি জেলা নেতৃত্ব।
এরপরে প্রার্থীরা দৌড়ে আছেন ৩) নৃপেন বিশ্বাস । তিনি মতুয়া ঘরের সন্তান। এবং শান্তনু ঠাকুর ঘনিষ্ঠ। ৪) এরপরে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে উঠে এসেছেন একজন মহিলা মুখ।তিনি নবনির্বাচিত মন্ডল সভাপতি বাণী ঘোষ।যদিও তিনি SC নয়। তবুও তার নাম কিন্তু উঠে এসেছে।৫) এছাড়ামন্ডল সভাপতি সুরেশ শিকদারের নামটাও শোনা যাচ্ছে।।
এখন দেখার বিষয় বিজেপি কাকে প্রার্থী করে। তবে ভুল প্রার্থী নির্বাচন করলে বিজেপি এখানে পস্তাতে পারে।
এই বিধানসভার মানুষের একটাই দাবি ভূমি পুত্রকে প্রার্থী করা হোক।
এই বিধানসভার ১২টি অঞ্চলের মধ্যে আটটি অঞ্চলে বিজেপির ভালো সংগঠন আছে।। কিন্তু বাকি চারটি অঞ্চলে বিজেপি সংগঠন একদম ভেঙে পড়েছে। পৌরসভার মধ্যে বিজেপির সংগঠন আগের থেকে খারাপ অবস্থায় রয়েছে।
তবে দলে কিছু সাংগঠনিক পরিবর্তন হলেই হরিণঘাটা কে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে। হিন্দু প্রধান বিধানসভায় বিজেপি যদি হেরে যায় সেটা বিজেপির কাছে ২০২৬ লজ্জার বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। কালীগঞ্জের বিধানসভা উপনির্বাচনে একটা জিনিস লক্ষ্য করা গেছে হিন্দুরা একত্রিত হয়ে একটি দলকেই ভোট দিয়েছে। আর সেটি হল বিজেপি। তবে তৃণমূল চাইবে হরিণঘাটা বিধানসভা কে দখল করতে। বিজেপি সংগঠনের মধ্যে এই বিধানসভায় প্রচুর নীলিমা নাগের সমর্থককে ঢুকিয়ে রেখেছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
তবে এই বিধানসভার মতুয়া ভোট একচেটি এবার বিজেপি পেতে পারে। ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে কিছু মতুয়া ভোট তৃণমূলের দখলে গেলেও এবার সেটা সম্ভব হবে না। তার কারণ তৃণমূলের একটি সভা থেকে মমতা বালা ঠাকুরকে কুৎসিত ভাষায় আক্রমণ করেছে তৃণমূলের নেতৃত্ব। মমতা ঠাকুরের অপমানের প্রতিবাদ করে তৃণমূল সমর্থিত মতুয় নেতারা রাস্তায় নেমেছে। যার প্রভাব বিধানসভা ভোটে পড়তে বাধ্য। এখন দেখার বিষয় কোন দল যেতে এবং কোন কোন প্রার্থী নির্বাচিত হন।
0 coment rios: