Friday, June 27, 2025

২০২৬করিমপুর বিধানসভায় বিজেপি কতটা লড়াই দিতে পারে শাসক দল তৃণমূলকে।

দীপঙ্কর বাছার, এবার বাংলা, করিমপুর -২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন করিমপুর হিন্দুদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হতে পারে। যে লড়াই বড্ড কঠিন হতে যাচ্ছে বিজেপি কাছে। কারণ এখানে ৩৭ শতাংশ মুসলিম ভোট। যার মধ্যে ৩৫ শতাংশ তৃণমূল পেতে পারে। তার উপরে  উপ নির্বাচনে বিজেপির প্রাথী হয়েছিলেন জয় প্রকাশ মজুমদার।
তিনি তৃণমূল বাহিনীর বুথ কর্মীদের কাছে চরমভাবে নষ্ট হয়েছিলেন। এমনকি পশ্চাৎ পদে লাথি খেয়ে কচু বাগানে উপুড় হয়ে পড়েছিলেন। 
 সেদিন সারা বাংলার  সব মিডিয়া তে এমন কি পুরো ভারতের মিডিয়াতে এই খবরটা ছড়িয়ে পড়েছিল।  
 আজকে জয়প্রকাশ মজুমদার  তৃণমূলের কাছে লাথি খেয়েও তৃণমূলেই যোগদান করেছেন। এখন তিনি তৃণমূলের মুখপাত্র। তার এই লাথি খাওয়া প্রসঙ্গ মাঝে মাঝেই তাকে শুনতে হয় বিরোধীদলের নেতাদের কাছ থেকে। করিমপুর বিধানসভা একটি হাইলাইট বিধানসভা। অথচ এই বিধানসভাটি বিজেপির নেতৃত্বের দ্বারা বঞ্চিত বিধানসভা। এখানকার যারা বিজেপি কর্মী তাদেরকে অবহেলার পাত্র হয়ে থাকতে হয়। কারণ বিধানসভাটি  প্রশাসনিকভাবে একটা জেলায়। দলীয় সাংগঠনিকভাবে আরেকটি জেলায়। 
 এখানকার যারা বিজেপির নেতৃত্ব বর্তমানে প্রথম সারিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার বেশিরভাগই সিপিএম থেকে আসার লোকজন। এইসব নেতা-নেত্রীরা মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে বহু বছর আগেই। আর তাদেরকেই বিজেপি এখানে জেলা পদধিকারী , মন্ডল সভাপতি,  ইত্যাদি পদে বসিয়ে বিজেপি সংগঠনের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে। 
 এখানকার যারা আদি বিজেপি তাদেরকে সংগঠনের বাইরে রাখা হয়েছে যার কারণে এখানকার সংগঠন শক্তিশালী ভাবে তৈরি হচ্ছে না। 
 গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে এখানে যারা সিপিএম থেকে এসেছে তাদেরকে বেশিরভাগই জেলা পরিষদের টিকিট, পঞ্চায়েতের টিকিট দেওয়া হয়েছে, আদি বিজেপি কর্মীরা এখানকার টিকিট পায়নি। 
 যার কারনে করিমপুর বিধানসভাটা ধীরে ধীরে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। সিপিএমের লোক গুলোকে নিয়েই এখানকার বিজেপি সংগঠন তৈরি হয়েছে। যার ফল ভোগ করছে এখানকার বিজেপির আধি কর্মীরা। 
 জেলা নেতৃত্বের কারণেই করিমপুর বিধানসভাটা সাংগঠনিকভাবে পিছিয়ে পড়েছে। গত বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএমের নেতৃত্বকে এখানে বিজেপির টিকিট দেওয়া হয়েছিল  যার কারণে এখানকার বিজেপি কর্মীরা সঠিকভাবে কাজ করেনি। এবং খুব সহজেই তৃণমূল এখানে জয়লাভ করেছে। অথচ এই বিধানসভাটি কিন্তু শক্তিশালীভাবে বিজেপি লড়াই দিতে পারে তৃণমূলকে। সঠিক প্রার্থী নির্বাচন করতে পারলে বিজেপি এখানে জয়ের কাছাকাছি চলে আসতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এখানে বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা ৪০ শতাংশ। এই মার্জিন কমিয়ে আনা যেতে পারে যদি বিজেপির পুরনো কর্মীদেরকে মাঠে নামানো যায় এবং সেই সঙ্গে সঠিক প্রার্থী নির্বাচন করা হয় কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে। 
 এই বিধানসভার ২৫৯টি বুথের মধ্যে  বিজেপির ১১২ টি বুথে শক্তিশালী সংগঠন আছে। এই সমস্ত বুথের পরিপূর্ণ কম করে পাঁচজনের কমিটি আছে। 
 ৮০ থেকে ৮৫ টি বুথে  বিজেপির শুধু নামমাত্রবুথ সভাপতি আছে। কিন্তু তার কোন কমিটি নেই। 
 বাদবাকি ৬০-৬৫ বুথে কোন কমিটিও নেই বুথ সভাপতি ও নেই বিজেপির।  এগুলো সবই জল মিশানো।
আঁধারকথা গ্রামের ৮টি বুথের মধ্যে বিজেপির সেভাবে সংগঠন নেই বললেই চলে। আনন্দপুর গ্রামের ৫টি বুথের মধ্যে  মাত্র ২টিতে বুথ কমিটি গঠন করা আছে। একমাত্র বাড়ুইপাড়া গ্রামের চারটি বুথে বিজেপির সংগঠন দেখা যায়। এছাড়া সিংহডাঙ্গা গ্রাম, মুরুটিয়া,তাজপুর,পিপুল বেরিয়া উত্তর তাজপুর গ্রামে বিজেপির কিছুটা সংগঠন আছে। 
 এখন দেখে নিয়ে যাক বিজেপি প্রার্থী দৌড়ে কে কে আছেন। 

 গত বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএমের সমরেন্দ্রনাথ ঘোষবিমলেন্দু সিংহ রায়ের কাছে পরাজয় স্বীকার করে। তিনি প্রায় 25 হাজার ভোটের কাছাকাছ মার্জিনে হেরেছিলেন। ইনি সিপিএম থেকে বিজেপিতে যোগদান করার কারণে বিজেপি কর্মীরা তাকে প্রার্থী হিসেবে মন থেকে মেনে নিতে পারেনি। যার কারণে কর্মীদের সেভাবে নির্বাচনে খাটতে দেখা যায়নি। সিপিএমের লোককে এভাবে বিজেপি প্রার্থী করবে এই বিধানসভার কর্মীরা এবং সাধারণ মানুষ মন থেকে মেনে নিতে পারেনি সেই কারণেই তৃণমূল এখানে সহজেই জয়লাভ করেছিল। যদি বিজেপির কোনো পুরনো কার্যকর্তা কে এখানে বিজেপির টিকিট দিত তাহলে  হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হতো। সেই সময় প্রার্থী দৌড়ে প্রবল ভাবে ছিলেন জেলার পুরনো কার্যকর্তা মৃগেন কুমার বিশ্বাস এর নাম। কর্মীরা তাকেই প্রার্থী হিসেবে পছন্দ করেছিলেন। 
 কিন্তু শেষ মুহূর্তে রাজ্য কমিটির কিছু নেতৃত্বের কারণ এই টিকিট পেয়ে যান সিপিএমের সমর বাবু। 
 তবে আমাদের জনমত সমীক্ষায়  যে তথ্য প্রবলভাবে উঠে এসেছে সেটা হল  যদি এবার বিজেপি মৃগেন কুমার বিশ্বাসকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেন তাহলে প্রবলভাবে লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হবে। 
 কোন দল বদল করা মানুষকে কেউই আর প্রার্থী   হিসেবে মেনে নিতে চাইছে না।
 যদিও প্রার্থী হিসেবে সমরবাবুর  প্রধান শিক্ষক এবং এক্স এম এল এ। তার একটা আলাদা পরিচিতি আছে কিন্তু সেটা সিপিএমে থাকাকালীন। বিজেপি কর্মীরা তাকে মন থেকে মেনে নিতে পারেনি। কারণ তার কাছেই বিজেপি কর্মীরা অত্যাচারিত হয়েছিলেন, সেই কারণে যখন তিনি বিজেপির প্রার্থী হলেন বিজেপি কর্মীরা তার হয়ে খাটেনি। 
 এখন দেখার বিষয় বিজেপি কাকে প্রার্থী করে। 
 সিপিএমের প্রার্থী হওয়ার দড়ি আছেন প্রভাস মজুমদার। তিনি ২০২১ সালেও সিপিএমের প্রার্থী ছিলেন এই বিধানসভা থেকে।
 এই বিধানসভায় জাতপাতের ভিত্তিতে ভোট হয়ে থাকে।
 এখন দেখে নিয়ে যা কোন সম্প্রদায়ের কত ভোট আছে এই বিধানসভায়।


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: