এই সিভিক ভলেন্টিয়ার এর বিরুদ্ধে এর আগেও একটা পরিবারের বউ এর সাথে পরকীয়া করে তার সব কিছু হাতিয়ে নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এটা তার একটা ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। ভালো ভালো সম্ভ্রান্ত পরিবারের বউদের সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে আলাপ পরিচয় করে। তাকে পরকীয়ায় জড়িয়ে আর সোনার গহনা টাকা-পয়সা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে একাধিকবার।
এই গুণধর সিভিক ভলেন্টিয়ারের নাম জয় গোলদার। তার বাড়ী ধর্মপুকুরিয়া পঞ্চায়েতের সভাইপুর গ্রামে।
সভাইপুর গ্রাম থেকে আমাদের প্রতিনিধিরা খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে জেনেছে, এই সিভিক টি রানাঘাটের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর বউকে পরকীয়ায় জড়িয়ে তাকে সর্বস্বান্ত করে দিয়েছে। সেই পরিবারটি আজকে সামাজিকভাবে সর্বস্বান্ত হয়ে গেছে।
কিন্তু আজকের এই প্রতিবেদনটি অন্য একটি পরিবারকে নিয়ে করা হয়েছে। SSC কাণ্ডে চাকরি যাওয়া এক যুবকের বউ এর সাথে পরকীয়া করে সেই বউ কে দিয়ে ডিভোর্সের মামলা করিয়েছে এই সিভিক।
যে যুবকের চাকরি গেছে সেই যুবক একাধিকবার এই সিভিক ভলেন্টিয়ার কে অনুরোধ করেছে তার সংসার নষ্ট না করার জন্য। এমনকি এই চাকরি চলে যুবকের শ্বশুরবাড়ির লোকজনও এই সিভিক ভলেন্টিয়ার এর বাড়িতে গিয়ে অনুরোধ করে এসেছেন এই চাকরি চলে যুবকের সংসার নষ্ট না করার জন্য।
দুই মেয়ে মা বউ নিয়ে ছিল একটি সাজানো গোছানো সংসার। যুবকের যখন চাকরি চলে যায় তখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল তার স্ত্রীর পাশে থাকার। কিন্তু তার স্ত্রীর পাশে না থেকে এই সিভিক ভলেন্টিয়ার সঙ্গে পরকীয়ায় মত্ত হয়ে পড়ে। চাকরি চলে যাওয়ার স্বামীর চোখের সামনে সে সিভিক ভলেন্টিয়ার সঙ্গে পরকীয়া করছে দিনের পর দিন।
গ্রামের লোকজন এই ঘটনা সহ্য করতে না পেরে চাকরি চলে যাওয়া যুবকের পাশে দাঁড়িয়ে এই পরকীয়ায় মত মহিলার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন। এবং সিভিক ভলেন্টিয়ারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানায়। তার কারণ এই সিভিকের চরিত্র ভালো নয় সে এর আগে একাধিকবার পরকীয়ায় জড়িয়েছে অন্যান্য মহিলাদের সঙ্গে। এটা তার একটা ব্যবসায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সিভিক এর গ্রামের প্রতিবেশীরা।
এর আগে সিভিকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকমের অভিযোগ শোনা গেছে। কিন্তু কোন সিভিক যে পরকীয়াকে ব্যবসায় পরিণত করতে পারে সেটা এই ঘটনা থেকেই প্রমাণিত। দুই গ্রামের মানুষই এই সিভিকের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থার দাবি করেছে প্রশাসনের কাছে।
চাকরি চলে যাওয়া যুবকের জীবন কাহিনী শুনলে আপনার চোখের জল চলে আসবে,চাকরি চলে যাওয়া যুবকটি ছোট বয়সেই তার বাবাকে হারিয়েছেন যখন সে মুখ দিয়ে কথা বলতে শেখেনি তার আগেই সে বাবাকে হারিয়েছিল।
তার মা তাকে কষ্ট করে গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করিয়েছিলেন। তারপর বেকারত্বের জ্বালায় তিনি চিটফান্ড কোম্পানি করতেন। সারোদা ও রোজ ভ্যালি কোম্পানিতে সে সাতাশ লক্ষ টাকা প্রতারিত হয়েছেন। এই টাকা তার নিজের নয়। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তিনি পলিসি আকারে তুলে কোম্পানিতে জমা করেছিলেন। যখন এই টাকা কোম্পানি চিট করে চলে যায় তখন যুবক টি একমাত্র চাষযোগ্য জমিটি বিক্রি করে লোকের দেনা পরিশোধ করেছিলেন।
তারপর সে একটি ধনী লোকের মেয়েকে বিবাহ করেন। এবং বিয়ের চার-পাঁচ বছরের মাথায় সে SSC তে চাকরি পায়। ভালোই চলছিল তার সুখের সংসার।
হঠাৎ করেই এসএসসি দুর্নীতি কাণ্ডে তার ২৬ হাজারের মধ্যে তার চাকরিটাও চলে যায়। এরপর যুবকের স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এবং স্ত্রী চাপ দিতে থাকেন তাকে ডিভোর্স দেওয়ার জন্য।
কিন্তু যুবকটি তার স্ত্রীকে ডিভোর্স দিতে রাজি হয়নি তার কারণ কদিন আগেই তার চাকরি চলে গেছে সে মানসিকভাবে সে ভেঙে পড়েছিল। এছাড়া তার বড় মেয়েটির সামনে মাধ্যমিক পরীক্ষা। কিন্তু সিভিক ভলেন্টিয়ারের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে তার কুপ পরামর্শে চাকরি চলে যাওয়া যুবকের স্ত্রী একতরফা ডিভোর্সের মামলা করেন তার স্বামীর বাড়িতে থেকেই। ডিভোর্সের মামলা করে তারা একই বাড়িতে থাকছিলেন এবং তার স্বামীর সামনেই সে পরকীয়ায় লিপ্ত ছিল এই সিভিক ভলেন্টিয়ারের সঙ্গে যুবকের স্ত্রী।
চাকরি চলে যা যুবকটিকে মাঝেমধ্যে শ্বশুর বাড়ির লোকজন এসে মারধর করত তার বৃদ্ধ মায়ের সামনে।
এই দৃশ্য গ্রামের মানুষজন সহ্য করতে পারেনি। গত কয়েক দিন যখন যুবক টিকে তার শাশুড়ি এবং বউ মিলে মারধর করছিল তখন গ্রামের মহিলারা মিলে যুবকের স্ত্রী ও শাশুড়ি কে উত্তম মধ্যম দিয়ে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন গ্রামের মানুষ।
আর এই ঘটনার জন্যে পুরোপুরি দায়ী এই সিভিক ভলেন্টিয়ার জয় গোলদার।
যদিও ডিভোর্স এর মামলা এখনো বিচারাধীন। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ নেক্সট হেয়ারিং আছে এই মামলার। সেদিন আবার মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু। দুটো মেয়ের সুন্দর ভবিষ্যৎ নষ্টের কারিগর এই সিভিক ভলেন্টিয়ার জয় গোলদার।
তাই স্থানীয় মানুষের দাবি এর উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করে সমাজকে শিক্ষা দিক পুলিশ প্রশাসন। যাতে কেউ আর কখনো সুখের সংসার নষ্ট করতে না পারে। যদিও আইনগত দিক দিয়ে এই ঘটনার কতটা বিচার পাবে যুবক টি সেটা সন্দেহ আছে। সিভিক ভলেন্টিয়ার এই পরকীয়ার ঘটনা প্রথম নয়। এটা তার তিন নম্বর পরকীয়া। এই তথ্য পাওয়া গেছে তার গ্রামের প্রতিবেশি দের মুখ থেকে।
0 coment rios: